হাইড্রোপনিক

হাইড্রোপনিক কি:

হাইড্রোপনিক পদ্ধতি হল চিরাচরিত মাটিতে চাষাবাদ বাদ দিয়ে পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ পানির মিশ্রণে চাষাবাদ। বিভিন্ন পদ্ধতির হাইড্রোপনিক্স আছে। যেমন ওয়াটার কালচার, এয়োরপনিক্স, ড্রিপ, একোয়াপনিক্স এবং এনএফটি এই পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত। হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে সবজি, ফল ও ফুল ইত্যাদি ফসল চাষের মূলনীতি হলো- নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গাছের অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান পানির মধ্যে সরবরাহ করে ষ্টীলের বা প্লাস্টিকের ট্রে, বালতি, পাইপ বা বোতলে ফসল উৎপাদন করা।

কেন হাইড্রোপনিক:

হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্য খেতে অপেক্ষাকৃত সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। স্বল্প জায়গায় বেশি ফসল ফলানো যায়। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে খরচও কম।

হাইড্রোপনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে স্থাপনা নির্মাণ কৌশল :

হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে স্থাপনা নির্মান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারনতঃ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে গ্রীন-হাউজ, প্লাস্টিক-হাউজ, ভিনাইল-হাউজ, পলি-টানেল, ইত্যাদি। গ্রীন হাউজের মাধ্যমে আমরা সারা বছর যে কোন সময় ফসল উৎপাদন করতে পারি। এ ছাড়া আমরা প্লাস্টিক-হাউজ অথবা ভিনাইল-হাউজের বা পলি-টানেলেও চাষাবাদ করতে পারি। স্বল্প পরিসরে দালান বাড়ীর ছাদ, বারান্দা বা অন্যান্য খোলা জায়গায় এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়। তবে গ্রীন-হাউজ বা গ্লাস-হাউজে খরচ তুলনামূলক বেশী। তবে উৎপাদিত ফসলের গুনগতমান মাঠ ফসলের তুলনায় অনেক ভাল। আমাদের দেশের আগ্রহী প্রগতিশীল কৃষক প্লাস্টিক-হাউজ তৈরী করে কম খরচে এ পদ্ধতিতে চাষবাদ করতে পারে। হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের জন্য স্টীলের ট্রে, প্লাস্টিকের বালতি, অব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, ইত্যাদি ব্যবহার করা য়ায়। তবে কোন পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা হবে তার উপর নির্ভর করে স্থাপনা তৈরী করতে হবে। সঞ্চালন ও সঞ্চালনবিহীন উভয় পদ্ধতিতে ষ্টীলের ট্রে ব্যবহার করা যায়। স্টীলের ট্রে ব্যবহারের পূর্বে ট্রে এর মাঝে সাদা রং দিয়ে প্রলেপ দিলে ভাল হয়। ফলে রাসায়নিক দ্রবন সরাসরি ধাতব পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারেনা। কোন অবস্থাতেই মরিচা পড়া ষ্টীলের ট্রে ব্যবহার করা যাবে না। একটি কাঠের অথবা লোহার বেঞ্চের উপর ট্রে স্থাপন করা যেতে পারে। অনেক সময় কাঠের বেঞ্চের উপর তাক করে ২-৩ টি ট্রে বসানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাকের আকার অনুযায়ী ফসল যেমন ষ্ট্রবেরী, লেটুস, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি গাছ নিচে ও মাঝের তাকে এবং উপরের তাকে শসা বা টমেটো গাছ লাগানো যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে Vertical চাষাবাদের জন্য অল্প জায়গায় অধিক ফসল উৎপাদন করা যাবে। সাধারনতঃ Non‐circulating এবং Circulating উভয় পদ্ধতিতে ট্রে স্থাপন করে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। স্টীলের ট্রে সাধারনতঃ ১৮-২৪ গেজ গ্যালভানাইজিং সীট দ্বারা তৈরী করতে হয় যার দৈর্ঘ্য ৩ মিঃ ও প্রস্থ ৯০ সেমিঃ এবং উচ্চতার ২০-২৫ সেমিঃ হতে হবে। সঞ্চালন পদ্ধতিতে কর্কশীট স্থাপনের জন্য কোন প্রকার লোহার পাত ট্রের মাঝে ব্যবহার করতে হয়না। কিন্তু সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতিতে ট্রের উপর থেকে ৫ সেমিঃ বাদ রেখে লোহার পাত স্থাপন করতে হবে। এই পাতের উপর কর্কসীট থাকবে এবং জলীয় দ্রবন এই দন্ডের উপর স্থাপিত কর্কশীটের ৫ সেমিঃ নীচে থাকবে। অতঃপর ট্রে টিকে একটি লোহা অথবা কাঠের ফ্রেমের উপর সমানভাবে বসাতে হবে।

সাধারণত দুই উপায়ে হাইড্রোপনিকস পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা যায়।
(ক) সঞ্চালন পদ্ধতি
(খ) সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতি

১। সঞ্চালন পদ্ধতি (Circulating System)

এ পদ্ধতিতে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদানসমূহ যথাযথ মাত্রায় মিশ্রিত করে একটি ট্যাংকিতে নেওয়া হয় এবং পাম্পের সাহায্যে পাইপের মাধ্যমে ট্রেতে পুষ্টি দ্রবণ (Nutrient Solution) সঞ্চালন করে ফসল উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা পাম্পের সাহায্যে এই সঞ্চালন প্রক্রিয়া চালু রাখা দরকার। এই পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম বছর ট্রে, পাম্প এবং পাইপের আনুসাঙ্গিক খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তী বছর থেকে শুধু রাসায়নিক খাদ্য উপাদানের খরচ প্রয়োজন হয়। ফলে দ্বিতীয় বছর থেকে খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।

পদ্ধতির কার্য প্রণালী

এই পদ্ধতিতে গ্যালভানাইজিং লোহার তৈরি ট্রে টি একটি Stand এর উপর স্থাপন করে প্লাস্টিক পাইপের সাহায্যে একটি ট্যাংকের সাথে যুক্ত করা হয়। এই ট্যাংক থেকে পাম্পের সাহায্যে রাসায়নিত দ্রব্য মিশ্রিত জলীয় খাদ্য দ্রবণ ট্রেতে সঞ্চালন করা হয়। গ্যালভানাইজিং লোহার ট্রের উপর কর্ক সীটের মাঝে গাছের প্রয়োজনীয় দূরত্ব অনুসারে যেমন, লেটুস ২০ x ২০ সেমি, টমেটো ৫০ x ৪০ সেমি এবং স্ট্রবেরী ৩০ x ৩০ সেমি দূরত্বে গর্ত করতে হয়। উপযুক্ত বয়সের চারা স্পঞ্জ (Sponge) সহ ঐ গর্তে স্থাপন করতে হয়। চারা রোপনের পর ট্যাংক থেকে ট্রের মধ্যে জলীয় দ্রবণ পাম্পের সাহায্যে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ ঘন্টা সঞ্চালিত করে গাছের অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়। ট্রেতে কমপক্ষে ৬-৮ সেমি পানি সব সময় রাখতে হবে। সাধারণত প্রতি ১২-১৫ দিন অন্তর জলীয় দ্রবণ ট্রেতে যোগ করতে হবে। এই পদ্ধতি সবজি উৎপাদনে pH এবং EC মাত্রা ফসলের চাহিদার মধ্যে রাখতে হয়। সাধারণভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে উৎপাদনের জন্য pH ৫.৮-৬.৫ এর মধ্যে রাখতে হয়। যদি pH এর মাত্রা ৭.০ এর উপরে হয় তবে আয়রন, ম্যাংগানিজ মলিবডেনামসহ অন্যান্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোক্লোরাইড এসিড (HCL) অথবা ফসফরিক এসিড (HPO4) বা নাইট্রিক এসিড (HNO3) দিয়ে pH কে কাঙ্খিত মাত্রায় রাখতে হবে। আবার pH যদি ৫.৮ এর বেশি নিচে নেমে যায় তখন NaOH অথবা KOH দিয়ে pH নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। EC এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে জলীয় দ্রবণে খাদ্য উপাদানের উপস্থিতির মাত্রা সাধারণত EC ১.৫-২.৫ ds/m এর মধ্যে রাখতে হবে। EC এর মাত্রা যদি ২.৫ ds/m উপরে চলে যায় সে ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানি যোগ করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকালে pH এবং EC সমন্বয় করতে হবে।

২। সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতি (Non-Circulating System)

এই পদ্ধতিতে একটি ট্রেতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে সরাসরি ফসল উৎপাদন করা হয়। এই পদ্ধতিতে খাদ্য উপাদান সরবরাহের জন্য কোন পাম্প বা পানি সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে খাদ্য উপাদান মিশ্রিত দ্রবণ ও উহার উপর স্থাপিত কর্কশীটের মাঝে ৫-৭ সেমি পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে এবং কর্কশীটের উপরে ৪-৫টি ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে যাতে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে এবং গাছ তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন কর্কশীটের ফাঁকা জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারে। ফসলের প্রকারভেদে সাধারণত ২-৩ বার এই খাদ্য উপাদান ট্রেতে যোগ করতে হয়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে প্লাস্টিক বালতি, পানির বোতল, মাটির পাতিল, ইত্যাদি ব্যবহার করেও বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং খোলা জায়গায় সঞ্চালন বিহীন পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করতে পারে। এত খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে।

পদ্ধতির কার্য প্রণালী

এই পদ্ধতিতে ট্রে, প্লাস্টিকের বালতি, অব্যবহৃত বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করে সবজি, ফল, ফুল উৎপাদন করা যেতে পারে। চারা রোপনের পূর্বে বোতল জলীয় দ্রবণ দ্বারা এমনভাবে পূর্ণ করতে হবে যাতে কর্কসীট ও জলীয় দ্রবণের মাঝে ৫-৮ সেমি জায়গা ফাঁকা থাকে। তবে বালতি বা বোতলে চারা লাগালে সে ক্ষেত্রে বায়ু চলাচলের জন্য ৩-৪ টি ছিদ্র রাখা দরকার। এই পদ্ধতিতে কোন বৈদ্যুতিক মটর, পাম্প বা পাইপ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। ফলে সহজেই আগ্রহী কৃষকগণ বাড়ির আশেপাশের খোলা জায়গায় যেমন, বারান্দা, বাড়ির ছাদে এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে।

উৎপাদনযোগ্য ফসল ও চারা উৎপাদন:

এই পদ্ধতির জন্য চারা উৎপাদনের জন্য মাটি ব্যবহার করা যাবে না। কারন মাটিতে চারা করলে ইনফেকশান হয়। সেজন্য হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য স্পঞ্জ (Sponge) ব্লক ব্যবহার করা হয়। বড় একটা ফোম নিতে হবে। এরপর ফোমকে ১-১/২” x ১-১/২” করে ডট ডট করে কাটতে হবে। এমনভাবে কাটতে হবে যাবে ফোমের টুকরোগুলো বড় ফোম থেকে একেবারে আলাদা হয়ে না যায়। কাটা ফোমগুলোর মাঝখানে ছোট করে ছিদ্র করে দিতে হবে। এই ছিদ্রের মাঝে ১টা বা ২টা করে বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের পূর্বে বীজকে ১০% ক্যালসিয়াম অথবা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। এরপর বড় ফোমটাকে একটা ট্রেতে পানির মধ্যে মধ্যে ডুবিয়ে সিক্ত করে করে নিতে হবে প্রথমে। তারপর এভাবে ট্রের পানিতে ভাসিয়ে রেখে দিতে হবে। ৩/৪ দিন পর যখন চারা বের হবে। চারা যখন ২ পাতা বিশিষ্ট হবে তখন ট্রের পানির মধ্যে ১০ মিলি দ্রবণ A এবং B দিতে হবে। চারা গজানোর ১০-১২ দিন পর থেকে চারা রোপনের পূর্ব পর্যন্ত প্রতিদিন ১০-২০ মিলি দ্রবণ দিতে হবে। চারার বয়স যখন ২০/২৫দিন হবে তখন ফোমের টুকরোসহ চারাকে তুলে উপযুক্ত স্থানে রোপন করতে হবে।
চারা রোপনের পর।

যে সমস্ত ফসল ফলানো যায়:

পাতা জাতীয় সব্জি: লেটুস, গীমাকলমি, বিলাতি ধনিয়া, বাঁধাকপি।
ফল জাতীয় সবজিঃ টমেটো, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, শসা, খিরা, স্কোয়াস।
ফলঃ স্ট্রবেরী।
ফুলঃ এ্যানথরিয়াম, গাঁদা, গোলাপ, অর্কিড, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা।

হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসলের চারা রোপনের বয়স ও pH মান বিভিন্ন হয়ে থাকে। নিম্নের সারণীতে তা উল্লেখ করা হলোঃ

ফসলের নাম উপযুক্ত চারার বয়স pH মান
টমেটো ৩-৪ সপ্তাহ (২-৩ পাতা অবস্থায়) ৫.৫-৬.৫
বেগুন ৪-৫ পাতা অবস্থায় ৫.৫-৭.০
ফুলকপি ৩-৫ সপ্তাহ (৪-৫ পাতা) ৬.০-৬.৫
লেটুস ২-৩ সপ্তাহ (২-৩ পাতা) ৬.০-৬.৫
ক্যাপসিকাম ৪-৫ সপ্তাহ ৬-৮ পাতা অবস্থায় ৬.০-৬.৫
স্ট্রবেরী ২-৩ সপ্তাহ (স্টোলন কাটিং) ৫.৫-৬.৫
শসা ২-৩ সপ্তাহ (৪-৫ পাতা) ৫.৮-৬.০
বাঁধা কপি ৪-৫ সপ্তাহ ৬.৫-৭.৫
ব্রুকলি ৪-৫ পাতা অবস্থায় ৬.০-৭.০
সীম ২-৩ পাতা অবস্থায় ৬.০-৬.৫
পেঁয়াজ ৬.৫-৭.০
হাইড্রোপনিক ফসল উৎপাদনের জন্য PH খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিএইচ হল এসিডিটি অথবা এলকালিন পরিমাপ করার একক। নরমাল পানির পিএইচ সাধারণত: ৭ । পিএইচ যদি ৭ এর নিচে থাকে তবে তা এসিডিক। আর যদি পিএইচ ৭ এর উপরে থাকে তবে তা এলকালিন। অধিকাংশ হাইড্রোপনিক ফসল উৎপাদনের আদর্শ পিএইচ হল ৫.৫ থেকে ৬.৫। যখন পিএইচ লেভেল এই রেঞ্জের নিচে নেমে যায় তখন প্রায় সব ধরণের ম্যাক্রো ইলিমেন্টস যেমন, নাইট্রোজেন, ক্যালশিয়াম, সালফার, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস এর ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায় এবং মাক্রো নিউট্রিশনগুলো যেমন-ম্যাঙ্গানিজ, বরিক, জিংক, কপার ইত্যাদি টক্সিক লেভেলে চলে যায়। পিএইচ যদি কাঙ্খিত মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায় তবে ‘পিএইচ ডাউন’ যোগ করে কাঙ্খিত মাত্রায় নিয়ে আসা যায়, আর যদি কমে যায় তবে ‘পিএইচ আপ’ দিয়ে কাঙ্খিত মাত্রায় নিয়ে আসা যায়। প্রতি ৪ লিটার পানির জন্য ১-২ মিলি পিএইচ আপ/ডাউন দিতে হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ বার করে পিএইচ দেখতে হয়।

EC কি এবং কেন এটি গরুত্বপূর্ণ:

EC, হলো নিউট্রিশন দ্রবণের electrical conductivity মাপার একক। এটার আরেক নাম CF বা Conductivity Factor. মূল কথা ইসি নিউট্রিশন দ্রবণের শক্তি পরীক্ষা করে। যদি কোন পানিতে মিনারেল না থাকে তবে ঐ পানিতে কোন ইসি থাকবে না। যেমন পিউর পানি বা ডিসটিল্ড পানিতে কোন ইসি নেই। যে দ্রবণে লবণ জাতীয় পদার্থের পরিমান বেশি সে দ্রবণের ইসিও তত বেশি। অধিকাংশ হাইড্রোপনিক ফসল উৎপাদনের আদর্শ ইসি হল ১.২ – ২.৪। তবে ফুল জাতীয় ফসলের ইসি হল ১.৬-২.৪।
পানিতে ইসি পরিমাপের অর্থই হল আমার তৈরী করা দ্রবণে নিউট্রিশনের পরিমান সঠিক আছে কি না। কমছে নাকি বাড়ছে? তাই প্রতি দিন অন্তত: একবার ইসি দেখা উচিত। যদি দেখা যায় দ্রবণে ইসির পরিমান কমছে তাহলে বুঝতে হবে গাছ পানি অপেক্ষা নিউট্রিশন বেশি ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ভাল নিউট্রিশন যোগ করে সমতা ফিরাতে হবে। যদি দেখা যায় দ্রবণে ইসির পরিমান বাড়ছে তাহলে বুঝতে হবে গাছ নিউট্রিশন অপেক্ষা পানি বেশি ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে পানি যোগ করে সমতা ফেরাতে হবে। ইসির পরিমান বাড়ার লক্ষণ হল, গাছের পাতা জ্বলে যাওয়া অথবা গাছ যেমন বাড়ার কথা তেমন বাড়ছে না। বিশেষ করে গরমের দিনে এই সমস্যা বেশি হয়।

হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসলের EC এর মানও pH এর ন্যায় বিভিন্ন হয়ে থাকে। নিম্নের সারণীতে তা উল্লেখ করা হলোঃ

বেগুন ১.০-১.২
সীম ১.৮-২.৫
ব্রুকলী ১.৪-২.৪
বাধা কপি ১.৪-২.৪
ক্যাপসিকাম ২.০-২.৭
ফুল কপি ১.৪-২.৪
শসা ১.৬-২.৪
লেটুস ০.৬-১.৪
পিয়াজ ১.৮-২.২
স্ট্রবেরী ১.৮-২.৪
টমেটো ২.২-২.৮
রাসায়নিক দ্রব্যের পরিমাণ ও তৈরির পদ্ধতি জলীয় খাদ্য দ্রবণ (Nutrient solution) তৈরিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যের পরিমাণ ও তৈরির পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলোঃ
রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণ (প্রতি ১০০০ লিটার পানির জন্য)
রাসায়নিক উপাদান পরিমাণ
পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট
(পটাশিয়াম ডিবেসিক ফসপেট) (K2HPO4) ২৭০ গ্রাম
পটাসিয়াম নাইট্রেড (KNO3) ৫৮০ গ্রাম
ক্যালসিয়াম নাইট্রেট (CA(NO3)2,4H2O) ১০০০ গ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MGSO4.7H2O) ৫১০ গ্রাম
ইডিটিএ আয়রন (EDTAFE) ৮০ গ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ সালফেট (MNSO4.H2O) ৬.১০ গ্রাম
বরিক এসিড (H3BO3) ১.৮০ গ্রাম
কপার সালফেট (CUSO4.5H2O)) ০.৪০ গ্রাম
অ্যামোনিয়াম মলিবডেট ((NH4)MO7O24.4H2O) ০.৩৮ গ্রাম
জিংক সালফেট (ZNSO4.7H2O) ০.৪৪ গ্রাম

Stock Solution তৈরী:

জলীয় খাদ্য দ্রবণ (Nutrient solution) তৈরির সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রথমে Stock solution তৈরি করতে হবে। এই Stock তৈরি করার সময় উপরিউক্ত মাপের ক্যালসিয়াম নাইট্রেট এবং EDTA Iron কে পরিমাপ করে ১০ লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে দ্রবণকে Stock solution ‘A’ নামে নামকরণ করতে হবে। অবশিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্যগুলিকে একইভাবে এক সাথে ১০ লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে Stock solution ‘B’ নামে নামকরণ করতে হবে। লক্ষ্যনীয় যে, প্রতিটি রাসায়নিক দ্রব্যকে লোহ জাতীয় নয় এমন দন্ড দিয়ে ভাল করে নেড়ে দ্রবীভূত করতে হবে অন্য একটি দ্রবণ মিশানোর আগে। উদাহরণ স্বরুপ; Stock solution ‘B’ এর জন্য প্রথমে যদি পটাসিয়াম নাইট্রেড ১০ লিটার পানিতে মিশাই তবে প্রথমে এটাকে পানিতে ভালভাবে মিশাতে হবে, এরপর যদি পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট দেই তবে এটাকে আগের দ্রবনে ভালভাবে নেড়ে মিশাতে হবে।
এখন অনেকের মনে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে কেন Stock Solution A এবং Stock Solution B আলাদাভাবে তৈরী করতে হয়? Hydroponic Stock Solution A তে ক্যালসিয়াম নাইট্রেট থাকে এবং Hydroponic Stock Solution B তে ম্যাগানেসিয়াম সালফেট থাকে, যা একত্রে মিশ্রিত করলে রাসায়নিক বিত্রিম্নয়ার মাধ্যমে CaSO4 হিসেবে তলানি পরে। তাই Stock Solution A ও Stock Solution B আলাদা ভাবে তৈরী করতে হবে।

জলীয় দ্রবণ তৈরী:

১০০০ লিটার জলীয় দ্রবণ তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে ১০০০ লিটার পানি ট্যাংকে নিতে হবে। তারপর Stock solution ‘A’ থেকে ১০ লিটার দ্রবণ ট্যাংকের পানিতে ঢালতে হবে এবং একটি অধাতব দন্ডের সাহায্যে নাড়া চাড়া করে ভালভাবে মিশাতে হবে। এরপর Stock solution ‘B’ থেকে পূর্বের মত ১০ লিটার দ্রবণ ট্যাংকে নিতে হবে এবং অধাতব দন্ডের সাহায্যে পানিতে Stock solution গুলি সমানভাবে মিশাতে হবে।
কেউ যদি ১০০০ লিটার দ্রবণ এর পরিবর্তে ৫০০ লিটার বা ২০০০ লিটার বা যেকোন পরিমান দ্রবণ তৈরী করতে চায় তবে নিচের টেবিল অনুসারে আনুপাতিক হারে রাসায়নিক দ্রব্য পরিমাপ করতে হবে। অন্যথা হলে চলবে না। তাহলে PH এর মান কম-বেশ হয়ে যাবে।
রাসায়নিক দ্রব্য পরিমান (গ্রাম/লিটার)
পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট
(পটাশিয়াম ডিবেসিক ফসপেট) (K2HPO4) ০.২৬৩
পটাসিয়াম নাইট্রেড (KNO3) ০.৫৮৩
ক্যালসিয়াম নাইট্রেট (CA(NO3)2,4H2O) ১.০০৩
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MGSO4.7H2O) ০৫১৩
ইডিটিএ আয়রন (EDTAFE) ০.০৭৯
ম্যাঙ্গানিজ সালফেট (MNSO4.H2O) ০.০০৬১
বরিক এসিড (H3BO3) ০.০০১৭
কপার সালফেট (CUSO4.5H2O)) ০.০০০৩৯
অ্যামোনিয়াম মলিবডেট ((NH4)MO7O24.4H2O) ০.০০০৩৭
জিংক সালফেট (ZNSO4.7H2O) ০.০০০৪৪

কখন জলীয় দ্রবণ পরিবর্তন করবেন:

প্রত্যেক ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর পর জলীয় দ্রবণ পরিবর্তন করতে হয়। জলীয় দ্রবণ পরিবর্তন করার সময় হলে অন্য আরেকটি পাত্রে ২-৩ ঘন্টা আগে থেকে জলীয় দ্রবণ তৈরী করে রাখতে হবে। জলীয় দ্রবণ ফেলে দেয়ার পর খালি কন্টেইনারকে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হয়।

বিভিন্ন ফসল চাষ পদ্ধতি:
লেটুস

সাধারণত ২-৩ সপ্তাহ বয়সের চারা ট্রের কর্কশীটের উপর গর্তের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়। চারা স্থানান্তরের সময় দ্রবনের pH ৫.৮-৬.৫ এর মধ্যে এবং EC এর মাত্রা ১.৫-১.৯ ds/m এর মধ্যে রাখা দরকার। অতঃপর ১০-১৫ দিন পর জলীয় খাদ্য দ্রবণ (Nutrient solution) যোগ করে EC এর মাত্রা বাড়িয়ে ২.০-২.২ ds/m এর মধ্যে রাখতে হবে। চারা লাগানোর ২০ দিন পর থেকে লেটুস সংগ্রহ করা যেতে পারে এবং ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে সংগ্রহ উপযোগী হয়। সংগ্রহের সময় প্রতিটি গাছের পাতাসহ গড় ওজন প্রায় ৪০০-৬০০ গ্রামের মত হয়ে থাকে। প্রথম বার লেটুস সংগ্রহের পর ঐ একই রাসায়নিক দ্রবণের ভিতর পুনরায় লেটুস লাগিয়ে দ্বিতীয় বার ফসল উৎপাদন করা যায়। সাধারণত শীত মৌসুমে একটি ট্রে থেকে ২-৩ বার লেটুস উৎপাদন করা সম্ভব।

ক্যাপসিকাম

চারার বয়স যখন ৪-৫ সপ্তাহ তখন ক্যাপসিকামের চারা রোপণ করার উপযুক্ত সময়। চারা রোপণের পর দ্রবণের pH মাত্রা ৫.৮-৬.৫ এর মধ্যে এবং EC মাত্রা ১.৫-১.৯ এর মধ্যে রাখা দরকার। গাছে ফুল আসা শুরু হলে EC মাত্রা বাড়িয়ে ২.০-২.৫ এর মধ্যে রাখতে হবে। ক্যাপসিকাম উৎপাদনে মাঝে মাঝে আয়রন (Fe) এর অভাবে উপরের দিকের পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে। গাছে এরুপ অবস্থা দেখা দিলে ১০ গ্রাম EDTA আয়রন ১ লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে ১০০০ লিটার দ্রবণের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ক্যাপসিকাম গাছকে সোজা রাখার জন্য X আকারের বাঁশের কিংবা কাঠের তৈরি খুঁটি দিয়ে ঠেস (Support) দিতে হবে। মাঝে মাঝে গাছের নিচের দিকে বয়স্ক পাতাগুলি কেটে পরিষ্কার করে দিতে হবে। সাধারণত চারা লাগানোর ২৫-৩০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ক্যাপসিকাম উত্তোলন করা সম্ভব। প্রতিটি গাছ থেকে ৮-৯টি ফল উত্তোলন করা সম্ভব। জাতভেদে প্রতিটি ফলের গড় ওজন প্রায় ১৫০-২০০ গ্রাম হতে পারে।

টমেটো

এ পদ্ধতিতে সাধারণত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় চারা রোপনের উপযুক্ত সময়। চারার বয়স যখন ৩-৪ সপ্তাহ কিংবা চারা যখন ২-৩ পাতা অবস্থায় আসে তখন একই পদ্ধতিতে টমেটোর চারা রোপন করতে হয়। টমেটো অম্ল (এসিড) পছন্দকারী শস্য বিধায় এর pH এর মান ৫.৫-৬.৫ এর মাঝামাঝি রাখতে হয়। গাছের দৈহিক বৃদ্ধির পর্যায়ে EC এর মান ১.৫-১.৯ এবং ফুল আসার সময় তা বাড়িয়ে ২.২-২.৫ ds/m এর মধ্যে রাখতে হবে। গাছের বৃদ্ধির পর্যায়ে উপর থেকে সুতা বা শক্ত রশি ঝুলিয়ে গাছকে সোজা ও খাড়া রাখতে হয়। মাঝে মাঝে গাছের পার্শ্ববর্তী শাখা ভেঙ্গে দিলে ফলন ভাল হয়। ট্রেতে খাদ্যের পরিমাণ কমে গেলে ১০-১৫ দিন পর জলীয় খাদ্য দ্রবণ যোগ করতে হবে। মাঝে মাঝে ফুলে হরমোন স্প্রে করলে ফলন অনেক বেড়ে যায়। প্রতিটি গাছে ২০-২৮টি পর্যন্ত ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম। এরুপ গাছ থেকে ২.৫-৫.৫ কেজি টমেটো উৎপন্ন হতে পারে। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি চারা রোপণ করে জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব।

স্ট্রবেরী

স্ট্রবেরী সাধারণত স্টোলন কাটিং এর সাহায্যে বংশ বিস্তার করে থাকে। যখন স্টোলনের বয়স ২-৩ সপ্তাহ তখন রোপনের উপযুক্ত হয় এবং অক্টোবর মাসে চারা রোপণ করে ডিসেম্বর মাস থেকে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। স্ট্রবেরী উৎপাদনের প্রয়োজনীয় pH ৫.৫-৬.৫ এবং EC এর মাত্রা ১.৫-১.৯ এর মধ্যে রাখতে হবে এবং গাছের বয়স ৩০ দিন হলে EC এর মাত্রা বাড়িয়ে ২.০-২.৫ এর মধ্যে রাখতে হবে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২৫-৩০ টি ফল ধরে এবং জাত ভেদে গড় ওজন ২০-৩০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
লক্ষণীয় বিষয় সমূহ ও সীমাবদ্ধতা
হাইড্রোপনিক পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করে এর উপযুক্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার উপর।
ইড্রোপনিক পদ্ধতিতে সাফল্যজনকভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর বিশেষ নজর রাখতে হবেঃ
ক) EC এবং pH এর মাত্রাঃ সাধারণতঃ pH এর মাত্রা ৫.৮-৬.৫ এবং EC এর মাত্রা ১.৫-২.৫ ds/m এর মধ্যে রাখতে হবে। উল্লিখিত মাত্রার বাইরে চলে গেলে গাছের শিকড় মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। মনে রাখতে হবে আকস্মিকভাবে জলীয় খাদ্য দ্রবণের ph এবং EC পরিবর্তন করা যাবে না।
খ) গাছের খাদ্য উপাদানের প্রয়োজনীয়তা, স্বল্পতা কিংবা আধিক্য গাছের স্বাস্থ্য ও পাতার রং দেখে বুঝা যায়। খাদ্য উপাদানের অভাবের লক্ষণ দেখে প্রয়োজন অনুসারে তা যোগ করে অভাব দূর করতে হবে। এ জন্য প্রতিটি উপাদানের অভাব জনিত লক্ষণ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।
গ) দ্রবণের আদর্শ তাপমাত্রা রক্ষা করতে হবে। সাধারণত দ্রবণের তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রী সে. এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। যদি দ্রবণের তাপমাত্রা বেড়ে যায় তবে শ্বসনের (Respiration) হার বেড়ে যায়, ফলে অক্সিজেনের চাহিদাও দারুনভাবে বাড়ে। এবং দ্রবণে অক্সিজেন এর পরিমাণ কমে যায়। সাধারণত দুপুরে তাপমাত্রা কমানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘ) জলীয় খাদ্য দ্রবণে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ অক্সিজেন এর অভাবে গাছের শিকড় নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলন মারাত্নকভাবে কমে যায়।
ঙ) চাষের স্থানে পর্যাপ্ত আলোর সুব্যবস্থা থাকতে হবে এবং রোগমুক্ত চারা ব্যবহার করতে হবে। কোন রোগাক্রান্ত গাছ দেখা গেলে সাথে সাথে তা তুলে ফেলতে হবে।
চ) চাষকৃত ফসলে বিভিন্ন পোকা মাকড়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে, এদের মধ্যে এফিড, লিফ মাইনার, থ্রিপস এবং মাকড় অন্যতম। প্রতিদিন তদারকির মাধ্যমে এদের দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সীমাবদ্ধতা
ক) দ্রবণ প্রস্তুতি, দ্রবণের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব (pH), Electric Conductivity (EC) বিভিন্ন খাদ্যোপাদানের অভাব জনিত লক্ষণসমূহ সনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
খ) এ পদ্ধতির চাষে কখনও কখনও নেট হাউস (Net House) বা গ্লাস হাউজের (Glass House) প্রয়োজন হয় বিধায় প্রাথমিক খরচ কিছূটা বেশি হয়ে থাকে। এমনকি নেট হাউস বা গ্লাস হাউজের ভিতরের তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কারণে ফলন কমে যেতে পারে।
গ) সব ধরনের ফসল এ পদ্ধতিতে চাষ করা যায় না এবং এ পদ্ধতির চাষে কারিগরি জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিশেষ প্রয়োজন।

প্রযুক্তিগত সহায়তা ও হাইড্রোপনিক উপকরণ  পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুণ।

 ই-মেইল :  help@mykrishi.com.bd

ফেসবুক পেজ:   My Krishi- পরিকল্পিত কৃষি

ইউটিউব:           My Krishi

ওয়েব সাইট:      mykrishi.com.bd

হট লাইল  –  01917 462 384