কৃষিবিদ মো: আব্দুর রহিম

মোঃ আব্দুর রহিম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ২০০৮ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তিনি সব সময় কৃষকদের কল্যাণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেন। ২০১১ সালে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া হতে জৈব সার উৎপাদনের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন এবং কৃষক পর্যায়ে ব্যপক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষি জমির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি বগুড়া জেলার সদর উপজেলার দিঘলকান্দিতে ট্রাইকোকম্পোস্ট ভিলেজ ও মধুমাঝিড়া গ্রামে ভার্মীকম্পোস্ট ভিলেজ নামে জৈব সার উৎপাদনের মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জৈবসার উৎপাদন বৃদ্ধিতে খামারের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি কমিউনিটি বেইজ বাণিজ্যিক জৈব সার উৎপাদনের ধারণা প্রবর্তন করেন। তিনি ভার্মীকম্পোস্ট উৎপাদনের উলম্ব পদ্ধতি ক্যারেটে ভার্মীকম্পোস্ট উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করেন। এই পদ্ধতিতে মাত্র ৩.৫ বর্গফুট স্থানে ৩০-৩৬ টি ক্যারেটে ভার্মীকম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এতে প্রতি শতাংশ খামারে ৪.৫-৬.০ টন ভার্মীকম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এছাড়া ভার্মীকম্পোস্ট হতে কেচোঁ আলাদা করনের জন্য ম্যাজিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। যার মাধ্যমে ফিশিং নেট ব্যবহার করে ১০ মিনিটে ভার্মীকম্পেস্ট হতে কেচোঁ আলাদা করা সম্ভব। এর ফলে খামারের উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে 25% তেমনি একক সময়ে খামারে উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ। পাশাপাশি তিনি ট্রাইকেকম্পোস্ট এর ০৩ চেম্বার, ০৪ চেম্বার ও ০৯ চেম্বার পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন। ০৯ চেম্বার পদ্ধতিতে ০১ শতাংশ প্লান্ট হতে প্রতি মাসে ১২ টন ট্রাইকোকম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এ সকল প্রযুক্তি দেশ এবং দেশের বাইরে সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন উদ্যোক্তা এবং বাণিজ্যিক জৈব সার উৎপাদনের খামারে প্রযুক্তি সমূহের ব্যবহার ও সম্প্রসারণ হচ্ছে। এ সকল প্রযুক্তির সম্প্রসারণে তিনি বিনামূল্যে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। অদ্যবধি ২৫ টি আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ব্যাচে তিনি ৬ শতাধিক ব্যাক্তিকে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ এবং ২ সহস্রাধিক কৃষককে অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তিনি দেশের শতাধিক খামারে কারিগরি পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জৈব সার উৎপাদন বেগবান করেন। তিনি প্রতিনিয়ত জৈব সার উৎপাদনকারী কৃষক/উদ্যোক্তাকে মোবাইল সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। আশা করা যায় আগামীতে সেবার মান ও পরিসর উন্নয়নের মাধ্যমে আরও অধিক কৃষক/উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও কর্মক্ষম জাতি গঠনের মাধ্যমে তিনি দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। তিনি তার গবেষণা বেগবান ও সম্প্রসারণে কাজ করে যাবেন।

এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে ছোট খামার সমূহেও উৎপাদন বেড়েছে ২-১০ গুণ। বড় আকারের খামার সমূহের দক্ষতা কৃষি উদ্যোক্তা/ বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে কৃষি জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ছে। এতে শুধু উদ্যোক্তা উপকৃত হচ্ছেনা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে জৈব সারের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে বিধায় মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা জৈব সার উৎপাদনের প্রযুক্তি সমূহ উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ গ্রহনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে খামার সমূহ লাভবান হচ্ছে। এত করে এইখাতে প্রতিনিয়ত নতুন খামার যুক্ত হওয়ায় রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমছে, কর্মক্ষেত্রের প্রসারতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্বকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।