বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ডাকঘরের অধীন চড়িয়া কালিবাড়ী গ্রামের মরহুম জোনাব আলী খান সাহেব-এর কনিষ্ট পুত্র। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ হতে বি. এসসি. এজি. (অনার্স); এম. এসসি. (এজি.) ইন প্লান্ট প্যাথলজি এবং পিএইচ. ডি. ইন প্লান্ট প্যাথলজি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি হাবিপ্রবি, দিনাজপুর থেকে” পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট কোর্স অন সিড টেকনোলজি” সম্পন্ন করেন।

বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান ১৯৯৫ খ্রি: থেকে বিভিন্ন ফসলের রোগ, রোগের সনাক্তকরণ ও রোগের দমন ব্যবস্থাপনার উপর কৃতিত্বের সহিত গবেষণা করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন ফসলের রোগ, রোগের সনাক্তকরণ, রোগ দমন ব্যবস্থাপনা, রোগের স্কোরিং স্কেল, রোগের পূর্বাভাস, ক্রপ মডেলিং, বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ (৪ মাস), ইনডাকশন ট্রেনিং (২ মাস), বীজ প্রযুক্তি (৩ মাস), অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও ক্রয় নীতিমালা, গবেষণা পদ্ধতি, উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নার্সারী ব্যবস্থাপনা, বানিজ্যিক ভাবে ফুল উৎপাদন, মসলা ফসলের প্রযুক্তি হস্তান্তর, বীজ প্রযুক্তি, সায়েন্টিফিক রিপোর্ট রাইটিং, ইন্টারনেট, কম্পিউিটার, গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং, ডাটা প্রসেসিং, ডাটা এ্যানালাইসিস ইত্যাদি বিষয়ের উপর দেশে ও বিদেশে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।

বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান ২০১৫ সালে কৃষি বিয়য়ক লেখার উপর অবদান রাখার জন্য “কৃষি সম্মাননা পদক ও ক্রেস্ট” প্রাপ্ত হয়েছেন। ২০২১ খ্রি: পর্যন্ত তাঁর মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৪৬৭ টি। তার মধ্যে দেশী-বিদেশী ও আন্তর্জাতিক জার্নালে মোট ১৭৫ টি পূর্নাঙ্গ সায়েন্টিফিক পেপার, ২২ টি অ্যাবস্ট্রাক্ট ও ২ টি শর্ট কমিউনিকেশন প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও কৃষিকথা, উর্বরা, কৃষি সওগাত, কৃষি বার্তা, কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি বিপ্লবসহ দেশের বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও ইন্টারনেট পত্র-পত্রিকায় কৃষি বিষয়ক তাঁর মোট ২৪৫ টি পপুলার আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর এ পর্যন্ত ১১ টি বুকলেট ও ফোল্ডারও প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান-এর প্রকাশিত মোট বই-এর সংখ্যা ১২ টি, তার মধ্যে প্রধান লেখক হিসেবে ৪টি ও সহযোগী লেখক হিসেবে ৮টি। তাঁর বইসহ অন্যান্য লেখার কাজ বর্তমানেও অব্যাহত আছে। বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান-এর উদ্ভাবিত ও বাস্তবায়িত গবেষণা প্রোগ্রামের সংখ্যা ১৫৯ টি এবং গবেষণাকৃত কৃতিত্ব ও ফলাফল ৮৫ টি। তিনি মসলা জাতীয় ফসলের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনের সাথেও জড়িত আছেন এবং প্রস্তাবিত জাতসমূহ মূল্যায়ন করে থাকেন। তিনি বিভিন্ন জার্নালের সহযোগী সম্পাদক ও পেপার রিভিউয়ারের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তিনি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব সমিতি, উদ্যানতত্ত্ব সমিতি, বীজ বিজ্ঞান সমিতি, উদ্ভিদ প্রজনন ও কৌলিতত্ত্ব সমিতি, ফল বিজ্ঞান সমিতিসহ মোট ১৫টি পেশাজীবি সমিতির আজীবন সদস্য।

বিজ্ঞানী ড. খালেকুজ্জামান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. এস., এম. ফিল ও পি-এইচ. ডি. ছাত্র-ছাত্রীদের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ও থিসিস পরীক্ষক। তিনি অনেক জাতীয় ও আন্ত:র্জাতিক সেমিনার/ওয়ার্কশপ-এ অংশগ্রহন করেছেন ও ১৫ টি সায়েন্টিফিক পেপার উপস্থাপন করেছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন ফসলের রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিবেদন ও অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত তাঁর সাক্ষাৎকার (Talk show) প্রায়শই প্রচারিত হয়ে থাকে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মসলা গবেষণা কেন্দ্র, শিবগঞ্জ, বগুড়ায় প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব) হিসেবে কর্মরত আছেন।